অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বিশ্বের সামরিক ব্যয় নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী দেশগুলোর শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ভারত।
সুইডেনভিত্তিক স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর ‘ট্রেন্ডস ইন ওয়ার্ল্ড মিলিটারি এক্সপেন্ডিচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র একাই ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের ব্যয় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ার ব্যয় প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে জার্মানি ও ভারত।
সিপ্রি জানায়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ইউরোপে এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ এবং এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলে বেড়েছে ৮.১ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের বড় অংশ এখন এই দুই অঞ্চল থেকেই আসছে।
ইউরোপে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও কানাডাসহ একাধিক দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এশিয়া অঞ্চলে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তাইওয়ানও প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে।
চীনের সামরিক ব্যয় টানা ৩১ বছর ধরে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনী আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
ভারতও সামরিক ব্যয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা তাকে বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রেখেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেন তাদের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশ হিসেবে রয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে সরকারি হিসাব ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে সিপ্রি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত ও মিত্র দেশগুলোর চাপের কারণে সামরিক ব্যয় ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা বাজেট বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলছে।



