অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে দমন-পীড়নের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করার খবর জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে ইরানে অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড় ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটছে। মূলত চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। এই সময়ের মধ্যে মোট ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ১০ জনকে বিভিন্ন বিরোধী সশস্ত্র বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার অভিযোগে এবং বাকি ২ জনকে বিদেশি সংস্থার হয়ে গোয়েন্দাগিরি করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আটকের তালিকায় দেখা গেছে বিশাল এক সংখ্যা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরান সরকারের এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই ব্যাপক গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মূলত যুদ্ধকালীন অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।



