অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকেন্দ্রে নিয়ম ভেঙে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর ফোন জব্দ করেছে নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক সংঘাত।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়। বিকেলের দিকে ভবানীপুর আসনের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী গণনা কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও উভয়ের কাছেই ফোন পাওয়া যায়। নিয়মের এই লঙ্ঘনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের দুজনের মোবাইল ফোন জব্দ করার নির্দেশ দেয় কমিশন। একই সময়ে মমতার ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তিনি কোনো প্রার্থী বা অনুমোদিত এজেন্ট না হওয়ায় কমিশন তাঁকে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৫টি আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে থেকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৪টি আসনে এগিয়ে আছে। এই ফল বিপর্যয়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। আসানসোলের জামুরিয়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া কোচবিহারের দিনহাটাতে গণনা কেন্দ্রের সামনেই বিজেপি ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বড় ধরনের মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
আসানসোলের একটি গণনা কেন্দ্রের ভেতরে এজেন্টদের মধ্যে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং তারা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির সম্ভাব্য জয়ের এই মুহূর্তে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন সহিংসতার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে।



