অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
রে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরান নতুন একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার জানায়, ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ নামে নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে চলাচলকারী সব জাহাজকে তাদের নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। নতুন নির্ধারিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা এবং কেশম দ্বীপের শেষ প্রান্ত থেকে উম্ম আল কোয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণ বলয় কার্যকর থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অনুমতি ছাড়া এই পথে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এরই মধ্যে পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা সরাসরি সহায়তা দেবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ইরান সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো বিদেশি বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের জবাব হিসেবেই তেহরান এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর। তবে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব বৈশ্বিক বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



