অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বহিষ্কার এবং দলীয় কোন্দলের টানাপোড়েন ছাপিয়ে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নিজের রাজনৈতিক শক্তি পুনরোদ্ধার করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর।
মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের গড়া নতুন দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি একই সঙ্গে নওদা এবং রেজিনগর—এই দুই আসনেই নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। নওদা কেন্দ্রে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী সাহিনা মুমতাজকে এবং রেজিনগর কেন্দ্রে আতাউর রহমানকে পরাজিত করে বিধানসভায় নিজের আসন নিশ্চিত করেন। এই জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তাঁর অনুগামীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং তাঁকে ‘মুর্শিদাবাদের নবাব’ বলে অভিহিত করে স্লোগান দিতে থাকেন।
হুমায়ুন কবীরের এই জয়ের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ। গত ডিসেম্বরে ভরতপুরের বিধায়ক থাকাকালীন ধর্মীয় ভাবাবেগ ব্যবহার করে বাবরি মসজিদ গড়ার প্রকাশ্য ঘোষণা এবং তৃণমূলের দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার শপথ নিয়ে তিনি নিজের দল গঠন করেন এবং এবারের নির্বাচনে প্রায় দেড়শো আসনে প্রার্থী দাঁড় করান। যদিও তাঁর দলের অন্যান্য প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারেননি, কিন্তু হুমায়ুন নিজে দুই আসনেই একাধিপত্য বজায় রেখেছেন। সমালোচকরা তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুললেও, তিনি প্রকাশ্যেই পাল্টা মেরুকরণের কৌশল বেছে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রচারিত ওই ভিডিওতে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন এবং বিনিময়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করেছেন। যদিও কবীর প্রাথমিকভাবে এই ভিডিওটিকে কারসাজি বলে উড়িয়ে দেন, তবে পরে স্বীকার করেন যে ভিডিওটি সত্য হলেও তা অসম্পূর্ণ। এই বিতর্কের কারণে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম তাঁর সঙ্গে জোট বাতিল করলেও মুর্শিদাবাদের মুসলিম ভোট ব্যাংক মূলত হুমায়ুন কবীরের পক্ষেই থেকেছে, যা তাঁর এই বিশাল জয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।



