অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ইরান ইস্যুতে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তার ভাষায়, “আমরা নতুন কোনো উত্তেজনা চাই না। আমরা শান্তির পথই বেছে নিতে চাই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান। তিনি আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির পক্ষে, যেখানে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ারও পক্ষে, যাতে বিশ্ব আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।”
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ২০২৫ সালের জুনে এই ইস্যুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘর্ষও হয়।
পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা চুক্তির জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
এই অভিযান চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানানো হয়। সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির কথাও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
টানা সংঘর্ষের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।



