অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজ বাড়ির সামনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা, যার ফলে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের বাড়ির সামনে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। চন্দ্রনাথ যখন গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ওঁত পেতে থাকা আততায়ীরা তাঁর পথ রোধ করে এবং গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালানো হয়। এই হামলায় চন্দ্রনাথের শরীরের দুটি স্থানে গুলি লাগে—একটি গুলি সরাসরি তাঁর বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি তাঁর পেটে লাগে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হামলার সময় চন্দ্রনাথের সাথে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হয়েছেন। চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ বেশ কিছু ব্যবহৃত বুলেটের খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন যে, অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে একটি ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করেছিল। গাড়িটির নম্বর প্লেটটি বিকৃত করা ছিল এবং তদন্তে দেখা গেছে সেটি আসলে শিলিগুড়ির একটি অন্য গাড়ির নম্বর।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়ক অর্জুন সিং এবং বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতেই এই ‘টার্গেট কিলিং’ বা পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে এবং এই হত্যার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে।



