অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর নাটকীয় মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
গত ২০২৬ সালের ৭ মে, বৃহস্পতিবার ভারতের ভবানীপুর আসনে পরাজয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। তার পরিবর্তে কেন্দ্র তাকে বরখাস্ত করুক বা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করুক—এমন পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক, রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই, সেই দিনটি একটি কালো দিন হোক।” নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করে তাদের ‘ভিলেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে প্রচার চলাকালীন তাকে ও ফিরহাদ হাকিমকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান যে, তিনি রাজনীতি না ছাড়লেও ভবিষ্যতে আবার আইন পেশায় ফিরবেন। তাঁর সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র ও বিমান ব্যানার্জিও আদালতে প্র্যাকটিস করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাধারণত গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী নির্বাচনে হারলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে না হাঁটায় এক সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সরকার গঠন না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এদিকে, আগামী ৯ মে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।



