অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় নিজেকে একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে রাজ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
গত শনিবার (৯ মে) ২০২৬ তারিখ ভারতের চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া ৫১ বছর বয়সী সি জোসেফ বিজয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তার সরকারে তাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না এবং সব নীতির পূর্ণ দায়ভার তিনি নিজেই গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এমন কঠোর বার্তা মূলত জোটসঙ্গীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। তিনি কোনো রাজকীয় বা রাজনৈতিক বংশ থেকে না এসেও জনগণের বিপুল সমর্থন পাওয়ায় তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তার ভাষণে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না এবং তার নেতৃত্বে রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়ের এক নতুন যুগ শুরু হবে। তিনি সরকারকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নবনিযুক্ত এই মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি, যার মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি সঞ্চয়ী হিসাবে এবং প্রায় ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে রয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিজয় রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি নথিতে তার প্রথম দুটি স্বাক্ষর ছিল গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন। তার নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের এক চমৎকার সমন্বয় দেখা গেছে। মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন প্রবীণ নেতা কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ডা. টি কে প্রভু ও এস কীর্তনা। এছাড়া আধব অর্জুনা, এন আনন্দ, আর নির্মল কুমার ও কে জি অরুণরাজও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বিজয়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে শুরুতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সমর্থন নিলেও নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। বিজয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি প্রশাসনিকভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। ‘মামা’ ও ‘থাম্বি’ নামে জনপ্রিয় এই নেতা তার ভাষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সহযোগীদের কাছে নিজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।



