অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের জেরে খোদ নিজ দলের ভেতরেই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, যেখানে ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন খাদের কিনারে। সোমবার (১১ মে) থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক সংকটে এ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৭২ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা দায়িত্ব ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ৫ হাজার আসনের কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি ১,১০০-এর বেশি আসন হারিয়েছে, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটির বিশাল জয়ের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েলসের সিনেড নির্বাচনে দলটির ঐতিহাসিক পরাজয় এবং স্কটল্যান্ডে এসএনপি-র কাছে পিছিয়ে থাকা এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ ১,৪৫০-এর বেশি আসন জিতে লেবার দুর্গে বড় ধরনের ভাঙন ধরিয়েছে।
দলের অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহ কেবল সাধারণ এমপিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; খোদ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও এখন স্টারমারের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া জোনাথন হিন্ডার এবং টম রুটল্যান্ডের মতো প্রভাবশালী এমপিরা মনে করছেন, স্টারমার বর্তমানে দলের জন্য আর কোনো ‘ভোটের সম্পদ’ নন এবং তার ওপর থেকে এমপিদের আস্থা উঠে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টারমার সোমবার লন্ডনে এক আবেগঘন বক্তৃতায় স্বীকার করেছেন যে তার সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে তিনি এখনই পদত্যাগ করতে রাজি নন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা দেশকে আরও বড় সংকটে ফেলবে।
নির্বাচনী এই ভরাডুবির পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দুর্বল অর্থনীতি, ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী ইস্যুতে সমালোচনা এবং বিতর্কিত রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো বিষয়গুলো স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে লেবার পার্লামেন্টারি দলের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যাকবেঞ্চার তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন, আর স্টারমারের পদত্যাগ দাবিকারীদের সংখ্যা এখন সেই সীমানার খুব কাছাকাছি। কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান এবং দলের ভেতর বামপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে বিভাজন প্রধানমন্ত্রীকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে স্টারমার তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।



