ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আবু রাহাত (২২) নামে এক আবাসিক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে লম্পট শিক্ষক আবু রাহাতকে একমাত্র আসামি করে তারাকান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আজ দুপুরেই পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নোয়াখালীর আদালতে প্রেরণ করে। এর আগে গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত আবু রাহাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আবু রাহাত ময়মনসিংহের পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার অর্জুনখিলা গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে। তিনি তারাকান্দা ইউনিয়নের ধলীরকান্দা মাঠখলা এলাকায় অবস্থিত ‘রওজাতুল আতফাল নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা’ ও ‘জান্নাতুল মোবাশ্বিরা মহিলা মাদরাসা’র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদের ছুটির আগে মাদরাসার সব শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক আবু রাহাত ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে নানা অজুহাতে বাড়িতে যেতে না দিয়ে মাদরাসায় রেখে দেন। পরবর্তীতে ফাঁকা মাদরাসায় কেউ না থাকার সুবাদে আবু রাহাত ওই অবুজ শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এই পাশবিক ঘটনার পর বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে, সে জন্য ভুক্তভোগীকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছুটি শেষে বাড়িতে যাওয়ার পর শিশুটি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গতকাল রবিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক ও তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে শিক্ষকের সেই নির্মম ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের ঘটনাটি সবিস্তারে প্রকাশ করে। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী উক্ত মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল গফুরকে অবরুদ্ধ ও আটক করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে তারাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসা পরিচালককে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে এবং মূল অপরাধী আবু রাহাতকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। তারাকান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, শিশু ধর্ষণের মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দুপুরের মধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



