রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং আদালতে আনা-নেওয়ার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার গণমাধ্যমে মন্তব্য করা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার বাদী ও ভিকটিম শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুনানি চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বিচারকের অনুমতি ছাড়া আসামির কথা বলার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। কিন্তু প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে মামলার বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার এবং মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টার আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি আমলে নেন এবং আসামিদের আদালতে তোলা ও নামানোর সময় তারা যাতে কোনো কথা বলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কঠোর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিন সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে সোমবার আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। একই সাথে মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এবং একই দিনে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় নারী আসামি স্বপ্না আক্তার। পরবর্তীতে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা আসামির কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২০ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পুলিশের দ্রুত তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে পৌঁছায় এবং মঙ্গলবার থেকে তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো।



