যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে বর্তমানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।
বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের অত্যন্ত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ইরান সংঘাতের পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাকে কোনোভাবে প্রলুব্ধ বা প্ররোচিত করেছিলেন কি না। এই প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহু তাকে কোনো যুদ্ধে জড়াননি, বরং তিনি নিজেই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন কারণ ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
নেতানিয়াহু তাকে যুদ্ধ শুরু করতে প্রলুব্ধ করেছেন বলে বিরোধীরা যে দাবি তুলছেন, তাকে পুরোপুরি অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি এই ধরণের বিরোধীদের ‘ডাম্বোক্র্যাটস’ বলে কটাক্ষ করেন এবং মন্তব্য করেন যে এই ব্যক্তিরা আসলে কী করছেন তা নিজেরাও জানেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পডকাস্টে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি যখন প্রথমবার হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে এসেছিলেন, তখন থেকেই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে, ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের অধীনে ইরানের সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প সেই চুক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনা করে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বের করে নিয়ে আসেন এবং ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, সেই সময়ে যদি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করতেন, তবে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সরাসরি ইসরায়েলের ওপর পড়ত। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, যদি তিনি মার্কিন ক্ষমতায় না থাকতেন, তবে আজ মানচিত্রে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেত না।



