গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে এবং বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৩ জুন) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই নতুন প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ গণবিরোধী এবং সাধারণ মানুষের ওপর একটি বড় ধরনের জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। বর্তমানে চাল, ডাল, তেলসহ সব ধরণের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ এমনিতেই দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশে শিল্প ও কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ এক লাফে ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে, যার কারণে কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে এক ধরণের স্থবিরতা নেমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতের এই লুটপাটের খেসারত দিতেই এখন সাধারণ জনগণের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জনগণের প্রতি সরকারের বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না। বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ঠিক পাঁচটায় ঢাকা মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই সাথে দেশের সবকটি মহানগরেও এই বিক্ষোভ কর্মসূচি একযোগে পালিত হবে।



