দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটি উদ্ধার করে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের বাসটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার ঠিক আগেই বাসের সব যাত্রীরা নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় বাসে থাকা চালক, সহকারী (হেলপার) ও সুপারভাইজার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীদের সহায়তায় তাদের নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাটের তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া থেকে রওনা হওয়া ওই বাসটিতে মোট ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারসহ বাসে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩ জন, অর্থাৎ সর্বমোট প্রায় ৪০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার উদ্দেশ্যে পৌঁছায়। ওই সময়ে ঘাটের বাঁ পাশের পকেটে ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ নামের একটি বড় ফেরি পার্ক করা ছিল এবং সেখানে যানবাহন ওঠানো হচ্ছিল। একই সময়ে অন্য পকেটে আরেকটি মাঝারি আকারের ফেরি অবস্থান করছিল। এসবি সুপার ডিলাক্স বাসটি যখন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল, তখনই হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি পাশের আরেকটি ফেরির র্যামে সজোরে আঘাত করে। আঘাতের তীব্রতায় পন্টুনের র্যাম ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। আল জুবায়ের নামের বাসের এক যাত্রী জানান, ঘাটে পৌঁছানোর পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকেই সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যাওয়ার পরই চালক ও তার সহকারী বাসটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ঠিক তখনই বাসটি হঠাৎ ডান দিকে বেঁকে যায় এবং পন্টুন ভেঙে পানিতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সার্বিক উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশ দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয় র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে টেনে তোলার মাধ্যমে ডুবে যাওয়া বাসটি সফলভাবে উদ্ধার করে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া চালক ও সুপারভাইজার বর্তমানে গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত বা অন্য কোনো যাত্রীর নিখোঁজ থাকার দাবি নিয়ে কেউ আসেনি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের আরেকটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিল এবং সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন।



