ভারতের পাঞ্জাবের মোহালিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ডিম্পল নামের এক তরুণীকে তার সাবেক প্রেমিক ও সহকর্মী হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।
ভারতের পাঞ্জাবের মোহালিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভালোবাসার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিচ্ছেদের জেরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ডিম্পল নামের এক তরুণীকে তার সহকর্মী এবং সাবেক প্রেমিক হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি অফিসের অন্য সহকর্মীদের সামনেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। শুক্রবার এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভি। সাবেক প্রেমিকার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অভিযুক্ত যুবক হ্যারি নিজের ডেস্কের সামনে ফিরে গিয়ে নিজের গলায় ৩০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং ওই অফিসের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে হ্যারি আচমকা ওই বেসরকারি অফিসে প্রবেশ করেন। সেই সময়ে ভুক্তভোগী তরুণী ডিম্পল নিজের ডেস্কে বসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলেন। হ্যারি অফিসে ঢুকেই ডিম্পলের ডেস্কে যান এবং পেছন থেকে আকস্মিকভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করতে শুরু করেন। হঠাৎ এই হামলায় ডিম্পল চরম আতঙ্কিত হয়ে আত্মরক্ষার্থে নিজের আসন থেকে উঠে অফিসের দরজার দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হ্যারি ক্ষিপ্ত হয়ে দরজার কাছে ডিম্পলকে ধরে ফেলেন এবং তার চুল টেনেহিঁচড়ে আবার ডেস্কে ফিরিয়ে এনে নির্বিচারে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। আক্রমণের সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা অন্য চার-পাঁচজন কর্মী হ্যারিকে থামানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। ডিম্পল তীব্র রক্তক্ষরণে নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও হ্যারির ক্ষোভ কমেনি, তিনি মাটিতে পড়া দেহের ওপর আরও ২০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করেন। ডিম্পলের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর হ্যারি নিজের ডেস্কের সামনে গিয়ে একই ছুরি দিয়ে নিজের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করতে শুরু করেন।
অফিসের ভেতরে এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত দুজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তরুণী ডিম্পলকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে নিজের গলা কাটা অভিযুক্ত হ্যারির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পাঞ্জাব পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত হ্যারি এবং নিহত ডিম্পল গত প্রায় তিন বছর ধরে ‘প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করছিলেন। কর্মক্ষেত্রে একসাথে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে এবং তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের পর হ্যারি তাদের পুরনো সম্পর্কটি আবারও জোড়া লাগানোর জন্য ডিম্পলকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন এবং চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ডিম্পল হ্যারির এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে রাজি না হওয়ায় হ্যারি চরম হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই মানসিক বিপর্যস্ততা থেকেই তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালান।
পাঞ্জাব পুলিশ ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী তরুণী ও অভিযুক্ত যুবক উভয়ের পরিবারকে এই মর্মান্তিক বিষয়টি অবহিত করেছে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিহত ও অভিযুক্ত উভয়েই পাঞ্জাবের পাটিয়ালার বাসিন্দা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রক্তমাখা ছুরিসহ যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করেছে এবং এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ নিহত তরুণী ডিম্পলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা প্রশাসন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হ্যারি ও ডিম্পল উভয়ের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যাটগুলো খতিয়ে দেখে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত চালানো হচ্ছে।



