পরীক্ষামূলক সংস্করণ

‘গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে’:হেলপারকে বললেন চালক

দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ব্রেক ফেল করায় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাসটি পন্টুনের ব্যারিকেড ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং চালক ঝন্টু আলী জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন স্বয়ং বাসের চালক। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার যৌথ উদ্ধার অভিযানের পর বাসটি নদী থেকে ওপরে তোলা সম্ভব হয়েছে। সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে নদী থেকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির চালক মো. ঝন্টু আলী, যার বয়স ৪৭ বছর। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের মৃত মোসাব আলীর ছেলে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে কুষ্টিয়া কাউন্টার থেকে মোট ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি নির্ধারিত সময়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছায় এবং ফেরিতে ওঠার নিয়ম অনুযায়ী বাসের সব যাত্রীকে নিরাপদ জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রী নামানোর কাজ শেষ করার পর চালক গাড়িটি ঘাটের মূল সংযোগ সড়কের দিকে নিয়ে যান।

চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে তিনি এবং তাঁর হেলপার (সহকারী) যখন গাড়িটি নিয়ে সংযোগ সড়ক দিয়ে ফেরির পন্টুনের দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। পন্টুনের অল্প একটু কাছাকাছি যাওয়ার পর চালক ঝন্টু আলী যখন গাড়ির গতি কমানোর জন্য ব্রেকে পা দেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে গাড়ির ব্রেক কোনো কাজ করছে না। ব্রেক ফেল হয়েছে বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পাশে থাকা হেলপারকে চিৎকার করে বলেন, ‘গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে’। চালকের কথা শুনে হেলপার চলন্ত বাস থেকে দ্রুত লাফ দিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করেন। এর মধ্যেই ব্রেকহীন গাড়িটির গতি আরও তীব্র বেগে বেড়ে যায়। চালক ঝন্টু আলী একাই বাসের স্টিয়ারিং ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও গাড়িটি পন্টুনের ওপর উঠে লোহার শক্ত ব্যারিকেড ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

চালক আরও জানান, বাসটি যখন পন্টুন ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছিল, তখন বাসের ভেতরে তিনি সম্পূর্ণ একা ছিলেন। বাসটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাসের জানালা দিয়ে পানির নিচে বের হতে সক্ষম হন এবং নিজের চেষ্টায় সাঁতরে নদীর কিনারে চলে আসেন। পরবর্তীতে ঘাটে থাকা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি নদী থেকে ওপরে উঠে আসেন। উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ঘাটে ব্রেক ফেলের কারণে এর আগেও অনুরূপ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত ২৫ মার্চ ব্রেক ফেইলের কারণেই ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬ জন নিরীহ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।

প্রধান খবর

মন্ত্রিসভায় রদবদল: নতুন করে জায়গা পেতে পারেন যারা

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী বাদ পড়তে এবং নতুন নেতা-সাংসদ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

অক্টোবরে চালু হবে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

আগামী অক্টোবরে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আসছে...