চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ও ষোলশহর এলাকায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে এবং ব্যানার প্রদর্শন করে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ ও ষোলশহর এলাকায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে পৃথক দুটি স্থানে এই মিছিলের ঘটনা ঘটে। প্রথম মিছিলটি নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বিদ্যুৎ ভবনের সামনে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে একই দিনে নগরীর ষোলশহর এলাকায় সংগঠনটির আরেকটি দল পৃথক একটি ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যুবলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তাদের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক অতিক্রম করে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মিছিলকারীদের হাতের ব্যানারে ‘হামে শিশু মৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা ছিল। ওই ব্যানারে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সামদামী জনির ছবিও স্পষ্ট দেখা গেছে। মিছিলটি অগ্রসর হয়ে আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। সংক্ষিপ্ত সময় স্লোগান দেওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
একই দিনে নগরীর ষোলশহর এলাকায় যুবলীগের আরেকটি পক্ষ পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল সম্পন্ন করে। ওই মিছিলের ব্যানারে শুলকবহর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. আবুল বাশারের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের এই ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগ্রাবাদ ও ষোলশহর এলাকায় অনুষ্ঠিত মিছিলের দুটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে। সিসিটিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে মিছিলে অংশ নেওয়া ও নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



