পরীক্ষামূলক সংস্করণ

নারী ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে

হাবিবুল্লাহ মিজান

রাজধানীর বেসরকারি ইমপালস হাসপাতালের বোর্ড সভায় প্রকাশ্যে একজন নারী পরিচালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আশরাফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ডাক্তার উম্মে সালমা মুন্নী জানান, গত শুক্রবার (৫ই সেপ্টেম্বর) বোর্ড সভায় তার ওপর হামলা করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আশরাফুল ইসলাম খান।

হামলার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ইমপালস হাসপাতালের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের বোর্ড সভা চলাকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা ইয়াসমিনের পক্ষে আশরাফুল ইসলাম খান প্রথমে তার দিকে তেড়ে আসেন। হামলা থেকে রক্ষা পেতে তিনি হাত দিয়ে সরিয়ে দিলে আশরাফুল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ঘুষি মারেন। পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে পুলিশ আসে।

ঘটনার সময় উপস্থিত হাসপাতালের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. অধ্যাপক জাহীর আল-আমিন বলেন, “আমি আমার বক্তব্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। পরে দেখি অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আশরাফুল ইসলাম খান ইমপালস হাসপাতালের পরিচালক ডা. উম্মে সালমা মুন্নীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ডা. উম্মে সালমা নিজেকে রক্ষায় আশরাফুলকে হাত দিয়ে সরিয়ে দেন। তখন আশরাফুল ইসলাম তাকে ঘুষি মারেন।”

এর আগে ৫ই সেপ্টেম্বর সকালে ইমপালস হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা ইয়াসমিনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ডা. উম্মে সালমা মুন্নী। জিডি নং: ২৭৪। তবে জিডি গ্রহণ করতেও পুলিশ অনেক গড়িমসি করেন একজন শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলে।

জিডিতে খালেদা ইয়াসমিন ছাড়াও নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এম এম জহুরুল আলম খান, ডা. ওয়াদুদ আলী খান, মো. ওমর ফারুক, মো. আশরাফুল ইসলাম খান ও ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ডা. উম্মে সালমা মুন্নী অভিযোগ করেছেন, বিবাদীদের সাথে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। এরই জের ধরে গত ৬ই আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে খালেদা ইয়াসমিন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭৩৯৭১৪*) থেকে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। তিনি কলটি রিসিভ করতে না পারায় ৬টা ৩১ মিনিটে খালেদার নাম্বারে ফোন দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এছাড়া ১৪ই আগস্ট ইমপালস হাসপাতালের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে তাকেসহ ডা. প্রফেসর নিশাত বেগম, ডা. খাদিজা ঝুমা, ডা. মোহসিন কাউসার এবং মৌসুমী খান নামের চার পরিচালককে রিমুভ করা হয়।

জিডিতে আরও উল্লেখ আছে, ৫ই সেপ্টেম্বর ইমপালস হাসপাতালের বোর্ড সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় তিনি ও তার পক্ষের শেয়ারহোল্ডাররা হাজির হলে অভিযুক্তরা তাদের ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। অবশেষে তার উপর হামলার মধ্য দিয়ে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে বলে দাবি করেন ডা. উম্মে সালমা মুন্নী।

তবে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবু ইসাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেনকে কল করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, স্যারের রুমে আছি। একটু পরে ফোন দিচ্ছি।”

পরে তিনি রাত ১১ টা ৪ মিনিটে এই প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে বলেন,জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তবে নারী ডাক্তার উম্মে ছালমা মুন্নীর উপর হামলার বিষয়ে ওসি মো. আসলাম বলেন,এই বিষয়ে তো জিডি করা হয়নি।

অভিযুক্ত সাবেক জেলা জজ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর আগে তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

এদিকে বোর্ড সভায় ঘটে যাওয়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে দাবি করে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা ইয়াসমিন রবিবার রাতে বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

প্রধান খবর

আসছে...