দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় বোলিং প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় দলের পাইপলাইনে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ১০ বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে ‘রবি বোলার হান্ট’। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় পেসার ও স্পিনারদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটাররাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে শুরু হবে ট্রায়াল। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে বাছাইপর্ব। ঢাকায় দুটি ভেন্যুসহ মোট নয়টি স্থানে এ কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। বরিশাল অঞ্চলের ক্রিকেটারদের ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হবে খুলনায়।
দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে রবি ও বিসিবির যৌথ উদ্যোগের সফল ইতিহাস রয়েছে। ২০১৬ সালের রবি ফাস্ট বোলার হান্ট থেকে উঠে এসেছিলেন এবাদত হোসেন। প্রায় ৪০ হাজার তরুণ পেসারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই প্রতিযোগিতায় ঘণ্টায় ১৩৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে দ্রুততম বোলার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন এবাদত।
এর পরের বছর আয়োজিত রবি স্পিনার হান্ট থেকে উঠে আসেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা রিশাদের সাফল্যও নতুন করে বোলার হান্ট আয়োজনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুরুষ ও নারী পেসার এবং স্পিনারদের প্রতিভা যাচাই করা হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই শেষে প্রতিটি ভেন্যু থেকে নির্বাচিত ক্রিকেটারদের ঢাকায় চূড়ান্ত ক্যাম্পে ডাকা হবে। সেখান থেকে যোগ্যদের বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের অধীনে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে।
বাছাই কার্যক্রমে সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবেন পাকিস্তানের সাবেক লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার কোরি কলিমোর এবং বিসিবির এইচপি দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। জাতীয় দলের কোচরাও পুরো বাছাইপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রতিভা খুঁজে বের করা নয়, তাদের ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য একটি সুসংগঠিত পথ তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের যথাযথভাবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। রবি বোলার হান্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উঠে আসা নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি হবে।
আগ্রহী ক্রিকেটাররা ‘মাই রবি’ ও ‘মাই সার্কেল’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিজ নিজ এলাকার ট্রায়ালের আগের দিন পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।



