সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগ।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে আসে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের পর তারা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। একই ঘটনায় নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একটি বিশেষ দল সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে।
পুলিশ জানায়, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
তার দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও চারটি অবিস্ফোরিত ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
এডিসি নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সালমান ইসলাম সাকিব বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের এবং নেপথ্যের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



