রাজধানীর মিরপুর-১ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহআলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে তদন্তে পাওয়া তাদের নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদনের শুনানির জন্য সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে একই মামলায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে একদল লোক হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহ আলী থানার আওতাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। তারা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর ও বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্র, রেজিস্ট্রেশন শাখা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
এজাহারে এসব ভাঙচুরে প্রায় ৪৯ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



