জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় বিক্ষোভকারীর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনায় ব্যবহৃত পুলিশ পিকআপ ভ্যানটি ঘটনার প্রায় দুই বছর পর সাভারের বাইপাইল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এটি সংরক্ষণের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানা এলাকায়। আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পর নিহতদের মরদেহ একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি অনুযায়ী, সেই আগুনে ছয়জন প্রাণ হারান এবং আগুন দেওয়ার সময় অন্তত একজন ভুক্তভোগী তখনও জীবিত ছিলেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় এ ঘটনার সত্যতা উঠে আসে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ ঘটনায় জড়িতদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আলামতটি দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে সাভারের বাইপাইলে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পুলিশের অস্থায়ী ডাম্পিং এলাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিল। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ওই জমিতে উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় ভ্যানটির সন্ধান মেলে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ (জেআরএ)-এর কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। জেআরএ-এর সভাপতি সালেহ মাহমুদ রায়হানসহ সংগঠনের সদস্যরা জানান, তারা ভ্যানের কাছ থেকে পোড়া হাড়, একটি চাবির রিংসহ কিছু সম্ভাব্য আলামত উদ্ধার করেছেন। তারা অভিযোগ তোলেন যে আলামতটি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল এবং এত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সুরক্ষিত না রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানান, থানায় মামলার আলামত রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এটি অস্থায়ীভাবে ভাড়া জমিতে রাখা হয়েছিল। জমির মালিক জায়গা ফেরত চাওয়ায় আলামতগুলো ধ্বংসের জন্য নয়, বরং পুলিশের নিজস্ব কবিরপুর স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল।
এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ জানান, উদ্ধারকৃত পিকআপ ভ্যানটি তৎকালীন সরকারের ভয়াবহতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতীক। আইনি ও প্রশাসনিক অনুমোদন সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভ্যানটি জাদুঘরে এনে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



