সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। বুধবার (৭ অক্টোবর) হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন।
হুথি মুখপাত্র জানান, বুধবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। তাঁর দাবি, হামলাটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত এবং পরিকল্পিত ছিল। এতে বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
ইয়াহিয়া সারী আরও দাবি করেন, একই সময়ে সৌদির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সেনাঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এ ছাড়া জাজান প্রদেশের রাজধানী জিজানের দাঘারি ও আল-মাউসিম সেনাঘাঁটি এবং আসির প্রদেশের আনকিফাহ সেনাঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি বাহিনী।
হুথি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি আবহা বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনাও ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সেনাঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পৃথক এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সৌদি-ইয়েমেন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, হুথি বাহিনীর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদের উত্তরে আটকে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, জোটের গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ওই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের ওপর নজরদারি চলছে এবং সেটি ধ্বংস করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে হুথিদের হামলার দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সৌদির বিমানবন্দর ও সেনাঘাঁটিতে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



