কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবোঝাই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে এক শিশু।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী-রাজীবপুর সড়কের যাদুরচর ইউনিয়নের সায়োদাবাদ বাজারসংলগ্ন শিবেরডাঙ্গি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত চারজন হলেন—রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি খাতুন, ছেলে রিশাদ (১২), মেয়ে তুবা (৭) এবং শিশু দুটির খালা শরিফা বেগম। নিহত অপর ব্যক্তি অটোরিকশাচালক। তাঁর বাড়ি জামালপুর জেলার কাউনিয়ার চর এলাকায় হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় বৃষ্টি নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে কাউনিয়ার চর থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি কর্তীমারীর দিকে যাচ্ছিল। পথে সায়োদাবাদ বাজারের কাছে শিবেরডাঙ্গি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই দ্রুতগতির একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিবেরডাঙ্গি বাজারের কাছে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান।
আহত শিশু হাসপাতালে, তদন্তে পুলিশ
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সামাদ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে অটোরিকশাচালক ছাড়া বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য।
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও নিহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



