ঝালকাঠির রাজাপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মো. সুমন মৃধা (৩৫) নামে এক বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও মারধর করে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৯টার পর উপজেলার বারবাকপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সুমন মৃধা রাজাপুর উপজেলার বারবাকপুর এলাকার মো. রুস্তম মৃধার ছেলে। তিনি হাজিরহাট বাজারে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করেন। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই দেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ৯টার পর দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন সুমন। আবদুল খালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পার হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর সঙ্গে থাকা সাইড ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান।
সুমনের দাবি, ব্যাগে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও তিনটি বাটন মোবাইল ফোন ছিল। হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আহত সুমন মৃধা বলেন, প্রতিদিনের মতো রাত ৯টার পর দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বিদ্যালয়টি পার হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সুমনের ভাষ্য, হামলাকারী পাঁচজন ছিলেন। তাঁদের একজন তাঁকে কোপ দেওয়ার সময় তিনি মাথা নিচু করে ফেলেন। এতে মাথার ওপরের অংশে আঘাত লাগে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের সবার মুখে মাস্ক বা টুপি ছিল। তাঁদের একজনের টুপি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনজনকে চিনতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁরা হলেন আফজাল শরীফ, রবিউল ইসলাম বাবু হাওলাদার ও লিটক। বাকি দুজনকে চিনতে পারেননি বলে জানান সুমন। পরে হামলাকারীরা তাঁকে ফেলে রেখে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



