অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মার্চ মাসে ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোর কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে এবং এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মার্চে ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চালানে ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল ২০ এপ্রিল রওনা দিয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও ১ লাখ টন তেল সরবরাহের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং জরুরি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইআরএল মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি চাহিদা পূরণ করা হয় পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রলের প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ করেছে ইআরএল। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের উল্লেখযোগ্য অংশও এই পরিশোধনাগার থেকে আসে।
সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হলেও বিকল্প আমদানি ও সীমিত উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।



