ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার। সৌদি আরবের অনুরোধের পর এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এবং হামলা প্রতিহত করতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সৌদি সামরিক বাহিনীকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টাদের পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সপ্তাহান্তে বাব আল-মান্দেবের কাছে ইয়েমেনের উপকূলের কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এর পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
পাইপলাইনটি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পরিবহন করা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণে হুতিদের অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা করেনি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গত শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে যুক্তরাজ্যের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানান।
অন্যদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। হুতিদের ঘনিষ্ঠ আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
এর জবাবে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সৌদি জোট।
সৌদির সঙ্গে সম্প্রতি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা পাকিস্তান ও তুরস্ক এখনো হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনো কার্যকর না হওয়ায় এর আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।



