নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত একতরফা ছিল বলে দাবি করেছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তাদের দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কমিটি। তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটিকে নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
শান্তর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ক্রিকেটাররা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। মানসিকভাবেও তারা টুর্নামেন্টে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং ভালো ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সরকার বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা ভেস্তে যায়।
শান্ত দাবি করেন, সিদ্ধান্তটি মূলত তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই নিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে আর কারা ছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান। তৎকালীন বিসিবি সভাপতিও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন বলে জানান শান্ত।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও বলেন, বিশ্বকাপে খেলার জন্য ক্রিকেটাররা প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে তাদের কিছুটা অনীহা ছিল। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন হলে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন বলে জানান তিনি।
লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি আগে থেকেই নেওয়া ছিল এবং সেটি ছিল একতরফা। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ক্রিকেটারদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটার ও কোচদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানে কয়েকজন ক্রিকেটারের বক্তব্য শোনা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে গত ২২ জুলাই ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজও বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, বিশ্বকাপ খেলা প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়নি।



