চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শিশু জুলিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমীর হোসেন ওরফে জামালকে ২১ বছর পর খালাস দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছে, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার না করে আমীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং জুলিয়াকে হত্যার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারেনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আমীর হোসেনকে খালাস দিয়ে ডেথ রেফারেন্স ও তাঁর আপিলের ওপর রায় দেন। একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুত কনডেমড সেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিশু জুলিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমীর হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়, আমীর হোসেন জুলিয়াকে অপহরণ করে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে খালপাড় থেকে পুলিশ জুলিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জুলিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আমীর হোসেনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরের বছর ৮ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে বিচারিক আদালত আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে এবং আসামিও দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণে আমীর হোসেন যে শিশু জুলিয়াকে হত্যা করেছেন, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার না করে আমীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ফলে রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে আমীর হোসেনের আপিল গ্রহণের মাধ্যমে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।



