নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নামিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে হাতকড়া পরানো হয় এবং চোখ বেঁধে একটি নোয়াহ গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঢাকা-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রামপদ দাস (৪২) এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আড়াইহাজার থানায় এজাহার দিয়েছেন।
রামপদ দাস নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নরসিংদী শহরের বাতিলবাড়ী রোডের গেঞ্জিপট্টি মোড়ে ‘নন্দিতা শিল্পালয় অ্যান্ড স্টোর’ নামের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
যেভাবে ঘটে স্বর্ণ লুটের ঘটনা
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রামপদ দাস তাঁর দোকানের কর্মচারী সাগর দাসকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার কেনেন। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা মেঘালয় লাক্সারি বাসে করে গুলিস্তান থেকে নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হন।
তাঁদের সঙ্গে ছিল প্রায় ৬০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৯০ ভরি রুপার অলংকারের মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসটি পুরিন্দা বাজারসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ও হেলমেট পরা চার ব্যক্তি বাসে ওঠেন। তাঁরা রামপদ দাসকে ধরতে এসেছেন বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন।
রামপদ বাস থেকে নামতে না চাইলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে টেনেহিঁচড়ে বাস থেকে নামিয়ে একটি নোয়াহ গাড়িতে তুলে নেন। গাড়িতে ওঠানোর পর তাঁর দুই চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দুই হাতে শক্ত করে হাতকড়া পরানো হয়।
স্বর্ণ-রুপার সঙ্গে টাকা ও সিমও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর মারধর ও হত্যার ভয় দেখিয়ে রামপদ দাসের কাছ থেকে ৬০ ভরি স্বর্ণ, ২৯০ ভরি রুপা এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর চোখের বাঁধন ও হাতকড়া খুলে আবার গামছা দিয়ে হাত বেঁধে দেয়। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে সিম খুলে নিয়ে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
পরে ঢাকা-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পেছনে তাকালে গুলি করার হুমকি দিয়ে গাড়িটি ঢাকার দিকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর স্থানীয় একটি দোকান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রামপদ দাস। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যান। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে দুর্বৃত্তদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ মাঝারি গড়নের, আবার কেউ স্বাস্থ্যবান ছিলেন। সবার পরনে প্যান্ট-শার্ট ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী।
তদন্ত করছে পুলিশ
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, রামপদ দাস নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তিনি কোথা থেকে অলংকার নিয়ে আসছিলেন এবং কোথায় যাচ্ছিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছে।



