অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন থাকছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে, ফলে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি)। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে গ্রামাঞ্চলে, যদিও রাজধানী ঢাকা তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় ও অঞ্চলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সর্বোচ্চ চাহিদা একেক সময় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছালেও উৎপাদন তার নিচে থাকছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চল ও জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপ বেশি। খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। কোথাও কোথাও দিনে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার তথ্যানুযায়ী, পূর্বাঞ্চল গ্রিডে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সিলেট) সরবরাহ তুলনামূলক বেশি হলেও পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডে (খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর) ঘাটতি বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে গ্রামীণ এলাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
জ্বালানি সংকটকেও এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় অনেক কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সরকারি হিসাবে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও এর একটি বড় অংশই পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রায় ১৮টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আরও কয়েকটি কেন্দ্র আংশিকভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষি কাজ, ক্ষুদ্র শিল্প, সেচ ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৮ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রংপুর ও রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কৃষিভিত্তিক কাজ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।



