অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ৫৮টি জেলায় হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট জেলার প্রায় ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ রোগটি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ অব্যাহত থাকা, বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, টিকাদানে ঘাটতি এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, করাইল বস্তি, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এর বাইরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো শিশুদের হার। মোট রোগীর প্রায় ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ দুই বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশ শিশু নয় মাসেরও কম বয়সী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বয়সী শিশুরা টিকার পূর্ণ সুরক্ষা পায় না বা অনেক ক্ষেত্রে টিকা পায়ই না, ফলে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ঘটছে টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে। চিকিৎসকদের মতে, হাম শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়, এটি দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্যান্য জটিলতায় রূপ নিতে পারে, যা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও ভ্রমণ বা চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরামর্শ দেয়নি। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে শিশুদের—টিকার আওতায় আনতে হবে। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ব্যাপক টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, যাতে তারা সময়মতো শিশুদের টিকা নিশ্চিত করেন।



