অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকারদের জন্য ছয়টি খোলা মাঠে অস্থায়ী বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানগুলোতে হকারদের নিবন্ধনের মাধ্যমে বসানো হবে এবং নির্দিষ্ট ফি আদায়ের মাধ্যমে এসব এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগে যেখানে ফুটপাতে প্রায় ২০০ হকার ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছেছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এমনকি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, অল্পসংখ্যক মানুষের কারণে অধিকাংশ নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ছে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত জায়গাগুলোতে কোনো স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। হকারদের চৌকি বা ট্রলির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং প্রতিদিনের শেষে তা সরিয়ে নিতে হবে। এতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বেশিরভাগ উদ্যোগই সাময়িক ভিত্তিতে নেওয়া হয়, ফলে টেকসই সমাধান পাওয়া যায় না। এ কারণে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নগর সেবাগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে পারলে সমন্বয়হীনতা কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধারে কাজ চলছে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভায় বক্তব্য দেন স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান। তিনি বলেন, শুধু কাগজে পরিকল্পনা থাকলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজধানীর অধিকাংশ সুবিধা গুলশান-বনানীর মতো সীমিত এলাকার মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত, অথচ কড়াইল বস্তির মতো এলাকায় সেই সুবিধা পৌঁছায়নি।
এ সময় ঢাকা ওয়াসা-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি শোধনাগার নির্মাণাধীন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা সমন্বিত পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



