অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় অগ্রগতি এলো ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে তারেক রহমান যশোরে এসে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন এই হাসপাতাল নির্মিত হলে শুধু যশোর নয়, আশপাশের ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পটির পেছনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিল এলাকায় প্রায় ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন কলেজের কার্যক্রম যশোর জেনারেল হাসপাতালে পরিচালিত হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়ে যায় হাসপাতাল না থাকায়।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্সদের ডরমেটরি এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধাও গড়ে তোলা হবে।
হাসপাতাল কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে রূপ দিতে রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য ৫০০ আসনের মিলনায়তন, একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



