অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বোরো মৌসুমে মাঠজুড়ে এবার বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠভরা পাকা ধান ও ভালো ফলন সত্ত্বেও বাজারদর পড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসির বদলে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। চারদিকে সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠ। তবে অনিয়মিত ঝড়বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফসল হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটে বেড়েছে খরচ।
বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিককে প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার একশ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাতশ পঞ্চাশ থেকে নয়শ টাকায়। এতে এক মণ ধানের দামেও শ্রমিকের মজুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ কয়েক বছর ধরে বাড়লেও ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ সব মিলিয়ে কৃষিকাজ এখন লোকসানের দিকে যাচ্ছে। ফলে ঋণ ও ধারদেনা শোধ করা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন তারা।
একজন কৃষক জানান, অনেক জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে, আবার যেগুলো পাকা হয়েছে সেগুলোও সময়মতো কেটে ঘরে তুলতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝিনাইগাতীতে এবার প্রায় চৌদ্দ হাজার ছয়শ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। তারা বলেন, এবার ফলন ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে কৃষকেরা উদ্বিগ্ন।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আগাম বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি না হয়। সরকার নির্ধারিত দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা কিছুটা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, মাঠে সোনা ফলিয়েও যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় সংকট তৈরি করবে।



