অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিষাক্ত ইনজেকশন ও চেতনানাশক হালুয়াসহ দেশের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও জনাকীর্ণ এলাকায় সক্রিয় থাকা অজ্ঞান পার্টির সংঘবদ্ধ চক্রের সাতজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় চত্বরের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারের সামনের পাকা রাস্তায় একটি বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এক অফিশিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল ইসলাম (৬০), মো. অপু আহমেদ সরকার (৩৮), মো. সুজন খান (৩৫), মুহাম্মদ রাশেদ ব্যাপারী (৫৮), মিঠু মিয়া ওরফে মন্টু ব্যাপারী ওরফে মিন্টু ব্যাপারী ওরফে মিটু (৫২), মো. মকবুল খন্দকার (৫৫) এবং মো. টুটুল বিশ্বাস ওরফে সুমন (৫৫)। গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে একটি প্যাকেটে পলিথিনে মোড়ানো কালো রঙের হালুয়াসদৃশ মারাত্মক চেতনানাশক দ্রব্য, আরেকটি কৌটায় রাখা চেতনানাশক হালুয়া এবং ক্ষতিকারক চেতনানাশক ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার বিভিন্ন অপরাধমূলক কলাকৌশল ও প্রচারণামূলক সাতটি লিফলেট এবং অপরাধের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি মোবাইল হ্যান্ডসেট জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অকপটে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত চক্র হিসেবে কাজ করে আসছিল। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও জনাকীর্ণ পাবলিক প্লেসে সাধারণ দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে তারা কৌশলে এই চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করিয়ে কিংবা সুকৌশলে শরীরে ইনজেকশন পুশ করে মুহূর্তের মধ্যে অজ্ঞান করে দিত এবং তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল ও মূল্যবান সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যেত। এই ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাতজন আসামির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় দেশের প্রচলিত আইনে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



