অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশকে অসাংবিধানিক ও নারীর প্রতি চরম বৈষম্য উল্লেখ করে হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৬ সালের ১১ মে সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা কেবল একটি অনৈতিক চর্চাই নয়, বরং এটি কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি করে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন এবং নারীর মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থী। আদালত রায়ে আরও বলেন, শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তব প্রয়োগ ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই অনৈতিক কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিষয়ে কঠোর আইন থাকার উদাহরণও রায়ে তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে আদালত জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে। দেশের সব নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট সেখানে সংরক্ষণ ও তদারকি করতে হবে। এই নির্দেশনাকে আদালত ‘ধারাবাহিক তদারকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার ফলে আদালত নিজেই ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও তানজিলা রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।



