অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের ভয়াবহতায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। এছাড়া একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ জনে। অর্থাৎ, গত দুই মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়িয়ে ৪২৪ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত সারা দেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৪ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দীর্ঘদিনের সফল টিকাদান কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাহত হওয়ায় এবং টিকার মজুত সংকটের কারণে এক সময়ের নিয়ন্ত্রিত এই রোগটি এখন প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি গণ-টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও তা সংক্রমণের গতির তুলনায় এখনো অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও প্রতিনিয়ত নতুন রোগী ভর্তির চাপে হাসপাতালগুলোতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



