অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত হওয়ার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহতা এবং এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে লাখো জনতা গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফখরুল অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে বাঁধটি চালুর অনুমতি দিয়েছিল, যা আজও অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য এক স্থায়ী বিপদে পরিণত হয়েছে।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন যে, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘন করে ভারত বর্তমানে ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে। এর ফলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে এবং দেশজুড়ে নিষ্ফলা উষর ভূমির আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মওলানা ভাসানীর সেই ঐতিহাসিক পদযাত্রার গুরুত্ব বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে তিনি মনে করেন। মওলানা ভাসানীই প্রথম এই মানববিপর্যয়কারী বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে এনেছিলেন। মহাসচিবের মতে, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার নীতির কারণে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ১৬ মে তারিখটি যেকোনো অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এ দেশের মানুষকে আজও অনুপ্রেরণা ও শক্তি জোগায়। পরিশেষে তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।



