অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
অপরাধের গুরুত্ব এবং অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালাটি শুরু হওয়ার পূর্বে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হওয়া কোনো আসামির রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতাকে মোটেও বিবেচনা করা হচ্ছে না। একজন আসামি যত শক্তিশালীই হোন না কেন কিংবা তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হোন না কেন, ট্রাইব্যুনালের কাছে তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং আসামির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দৃশ্যমান অভিযোগ এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বর্তমান বিচারিক অগ্রগতি তুলে ধরে জানান যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত সফলভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সমাজের বেশ কয়েকজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তি তাদের অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সাজা পেয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা প্রমাণে তিনি উদাহরণ হিসেবে বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়টি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই একটি মামলায় অপরাধের সম্পৃক্ততা ও গভীরতা বিবেচনা করে ৩০ জন আসামিকে তাদের নিজ নিজ অপরাধ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট শাস্তি প্রদান করা হয়েছে, কাউকেই ঢালাওভাবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়গুলোর মাধ্যমেই দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে বিচারপ্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, আইনি মানদণ্ড ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট এবং প্রমাণিত হয়েছে।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অধীনে থাকা মামলার সংখ্যা ও নতুন তদন্তের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ৪০৫টি মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় খুব শিগগিরই সেগুলোর রায় নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে সারা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গুম ও খুনের ঘটনার তদন্তকাজও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত নিরপরাধ কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি এবং যাদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান অপরাধের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
মামলার চালিকাশক্তি তথা সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর অত্যন্ত আশ্বস্তকর বার্তা দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো সংবেদনশীল মামলার সাক্ষীদের বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। একজন সাক্ষী নিজ এলাকা থেকে নিরাপদে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করা এবং পরবর্তীতে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত যাবতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ট্রাইব্যুনাল এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হচ্ছে।



