পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেই নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের অপেক্ষায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ দেরিতে ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সাধারণ যাত্রী।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নোয়াখালীর হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মহানন্দা’ নামক ফেরিটি বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারম্যানঘাট থেকে ছেড়ে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে এসে পৌঁছায়। সাধারণত গাড়ি ও যাত্রী ওঠানামা শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার আগেই ফেরিটির পুনরায় ফিরতি যাত্রা করার কথা থাকলেও সেটি রাত প্রায় ৯টায় ঘাট ত্যাগ করে। যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের আগমনের অপেক্ষায় ফেরি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাক দীর্ঘ সময় ফেরিতে ওঠাতে দেয়নি। তীব্র গরম ও উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দাঁড় করিয়ে রাখায় একপর্যায়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ঘাটে পৌঁছানোর পর এই বিলম্ব নিয়ে স্বয়ং সংসদ সদস্যের সাথেও যাত্রীদের তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। শরিফুল ও হিমেল নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢাকা বা মাইজদীগামী রাতের বাস ধরার পরিকল্পনা থাকলেও একজন জনপ্রতিনিধির জন্য ফেরি আটকে রাখায় অনেকেরই পরিবহন মিস হওয়ার উপক্রম হয় এবং কর্মস্থলে ফেরার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল এমপি সাহেব আসবেন, তাই ফেরি ছাড়তে কিছুটা দেরি হবে; যার কারণে শুরুতে গাড়ি লোড করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে রাত ৮টার পর ফেরিটি ছেড়ে যায়। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। সমর্থকদের পাল্টা দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু ঘাট সিন্ডিকেট সংসদ সদস্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এমপি ঘাটে পৌঁছানোর আগেই গাড়ি লোড না করে রাস্তায় কৃত্রিম যানজট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। ফেরি বিলম্বের এই প্রকৃত কারণ নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও এমপির সমর্থকদের পরস্পরবিরোধী দাবির জেরে বর্তমানে হাতিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।



