প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মধ্য দিয়ে ভোলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের নয়বারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। জানাজা শুরুর পূর্বে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। জানাজায় তোফায়েল আহমেদের নিকটাত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান তার পরিবারের সদস্যরা।
ঐতিহাসিক এই জানাজায় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর এবং সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে অবতরণ করে। মাঠের জানাজা শেষে তার মরদেহ সরাসরি নিজ গ্রাম কোড়ালিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শেষ জানাজা বা তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোড়ালিয়া গ্রামে নিজ বাবা, মা ও স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত বা দাফন করা হবে।
পারিবারিক সূত্র ও পূর্বের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতসহ (প্যারালাইসিস) নানা বার্ধক্যজনিত ও লিভারের জটিলতায় ভুগে সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ছাত্রজীবনেই তিনি বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রসংসদ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ও রাজনৈতিক সচিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মৃত্যুকালে তার একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ মুন্নি, জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন।



