সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করতে রামগতি ও কমলনগরের নদীঘাটের ইজারা ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান; প্রয়োজনে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে ইজারাদারদের টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী (রিইউনিয়ন) অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ঘাট ইজারাদারদের উদ্দেশ্যে এই স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। ঈদুল আজহা পরবর্তী এই অনুষ্ঠানে দেওয়া তার আবেগঘন ও আপসহীন বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে এটি জেলা ছাড়িয়ে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘাটের অতিরিক্ত টোল ও ইজারা নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিরুদ্ধে এমন সাহসী অবস্থান নেওয়ায় নেটিজেনদের মাঝে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ঘাট ইজারাদারদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও কষ্টহীন করতে ঘাটের ইজারা বা টোল আদায় পুরোপুরি ফ্রি করে দিতে হবে। তিনি মানুষের পকেট কাটার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে বলেন, “আমি হয়তো এত টাকাওয়ালা লোক না, তবে ভোররাতে মালিকের কাছে চাইলে টাকা জোগাড় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দরকার হলে নিজের বাপ-দাদার জমি বেচে ইজারাদারদের পাওনা টাকার বিকল্প ব্যবস্থা আমি নিজেই করে দেব!” ক্ষমতার মোহ ছেড়ে জীবনের নশ্বরতার কথা স্মরণ করে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “কতবার এমপি হইতে হবে? আমার আর বেশি বাঁচার দরকার নাই, এমপি হওয়ারও দরকার নাই! রামগতি আর কমলনগরে যদি ২-৩টা জিনিস ঠিক করে দিতে পারি, অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
বর্তমান সময়ে যখন বিভিন্ন নদীঘাট, হাটবাজার বা গণপরিবহণে ইজারার নামে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কর বা চাঁদার বোঝা চাপানোর অভিযোগ নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে একজন ক্ষমতাসীন দলের হুইপের এমন জনবান্ধব ঘোষণা সত্যিই বিরল ও অনন্য। স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, হুইপের এই যুগোপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত রাজনীতিকে ব্যবসার হাতিয়ার না বানিয়ে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কর বা টোলের জুলুম বন্ধসহ অবহেলিত এই উপকূলীয় জনপদের ২-৩টি মৌলিক সমস্যা যদি স্থায়ীভাবে সমাধান করা যায়, তবে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। রামগতি ও কমলনগরের বাসিন্দারা আশা করছেন, এই ঘোষণা দ্রুত প্রতিটি ঘাটে ও হাটে বাস্তবায়িত হবে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে থাকবে।



