নীলফামারী জেলায় টানা চার দিনের মাঝারি তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক, কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে জেলায় মাঝারি তাপদাহ শুরু হয়। এ সময় তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ থেকে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বুধবার (৪ জুন) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৫ শতাংশ।
প্রচণ্ড রোদ ও তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। অনেকেই জীবিকার তাগিদে মাঠে নামলেও দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামে শ্রমিকদের পাকা ধান কাটতে দেখা যায়। তারা জানান, তীব্র রোদে কিছুক্ষণ কাজ করার পরই বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। গরমের কারণে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন।
কৃষি শ্রমিকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমির ধান কাটার জন্য নির্ধারিত মজুরি থাকলেও অতিরিক্ত গরমে কাজের গতি কমে গেছে। প্রতি ঘণ্টা পরপর ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে, ফলে সময় ও শ্রম দুটিই বেশি লাগছে।
এদিকে পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টি শুরু হলে মাঠে থাকা ধানের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে।



