লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল হক খন্দকার আদালত থেকে জামিন পেয়ে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই কারাফটক (জেলগেট) থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে পুনরায় আটক হয়েছেন।
আদালত থেকে পর পর দুই বার জামিন পাওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল হক খন্দকারের। কারাফটক (জেলগেট) থেকে বের হওয়া মাত্রই আবারও তাঁকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা কারাগারের সামনে এই আটকের ঘটনা ঘটে। কারাগার থেকে মুক্তির পরপরই ডিবি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় সিরাজুল হক খন্দকার গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৫ মে তিনি প্রথমবারের মতো আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। তবে আইনি জটিলতা কাটিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি যখন কারাগার থেকে বের হন, তখনই জেলগেটে ওত পেতে থাকা ডিবি পুলিশ তাঁকে পুনরায় আটক করে।
এর আগে, ২০২৩ সালে লালমনিরহাটে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের একটি সহিংস ঘটনায় সিরাজুল হক খন্দকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ ওই শ্রমিক দলের কার্যালয়ে হামলার মামলাটিতেও বুধবার সন্ধ্যায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছিলেন সিরাজুল হক খন্দকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবারও তিনি কারাফটকের বাইরে পা রাখা মাত্রই ডিবি পুলিশের কবলে পড়েন। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো আদালত থেকে জামিনের আদেশ পাওয়ার পরও তাঁর চূড়ান্ত মুক্তি মেলেনি। তবে এবার ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট মামলা বা নতুন কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য কিংবা প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, আদালত থেকে পর পর দুই বার আইনিভাবে জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে বারবার আটকের এই ঘটনায় লালমনিরহাটের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সিরাজুল হক খন্দকারের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো মামলা বা নতুন কোনো অভিযোগ রয়েছে কিনা—তা নিয়ে নিবিড় আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাঁকে সুনির্দিষ্ট কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে, তা পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।



