মিরপুরে বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচনধরা লাশ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকার আরেকটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যিনি গত ১২ বছর ধরে সেখানে একা বসবাস করছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরে একের পর এক একাকী বসবাসকারী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুয়েট অধ্যাপকের বৃদ্ধা মায়ের পচনধরা লাশ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই এলাকায় আরও এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাতে মিরপুর ৬ নম্বর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পল্লবী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত সেলিনা আফরোজের স্বামী এবং দুই সন্তান দীর্ঘ দিন ধরে কানাডায় প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। প্রায় ১২ বছর আগে সেলিনা আফরোজ কানাডা থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন এবং মিরপুর ৬ নম্বরের ওই ফ্ল্যাটটিতে সম্পূর্ণ একাকী জীবন যাপন করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৬ মে রাতে সেলিনা আফরোজের ভাতিজা সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। একপর্যায়ে দীর্ঘ দিন কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত ও সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত ৩১ মে (রবিবার) মিরপুরেরই আরেকটি বাসা থেকে নূরুজাহান বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছিল পল্লবী থানা পুলিশ। মৃত ওই বৃদ্ধার তিন ছেলের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েট অধ্যাপক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। সন্তানরা প্রত্যেকে আর্থিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও মা ঘরে একা মরে পচে থাকার এই ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নৈতিক অবক্ষয় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই রেশ না কাটতেই একই এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর এমন একাকী মৃত্যুর ঘটনা নগরের মানুষের একাকীত্ব ও পারিবারিক দূরত্বের নির্মম চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে।



