বিদ্যুৎ সেক্টরের সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার কোটি টাকার লুটপাট না থামিয়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অবিলম্বে বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ দেশজুড়ে চলমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জোর দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ব্যর্থতা দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। তারা জাতির সঙ্গে করা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে এবং জুলাই সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরই সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু মাত্র তিন মাস পার হতে না হতেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম একলাফে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়ানো হলো এবং এবার বিদ্যুতের দামও প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, গ্রাহক পর্যায়ে ছয়টি স্লটে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। বিদ্যুৎ সেক্টরে সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে চলমান হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ না করে, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সেই ঘাটতি ভরাট করার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কঠিন শর্ত পূরণের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের গোলাম নই।’ সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, সরকার সেদিকে কোনো টেকসই পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ চাপিয়ে দিচ্ছে।
আসন্ন ৭ জুনের সংসদ অধিবেশন ও বাজেট পেশের প্রসঙ্গ টেনে এই জামায়াত নেতা বলেন, আইএমএফের শর্ত বা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা না করে, অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই হঠাৎ এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় সংসদ ও জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনগণের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন। অন্যথায় অতীতে জুলুম-অত্যাচারের পরিণতি কী হয়েছে, তা পেছনের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন। দেশের মানুষ এখন মন্ত্রীদের দেখলেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিচ্ছে। পরিশেষে তিনি যোগ করেন, তাঁদের বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াদা করেছেন সরকারের সব ভালো কাজে তারা সাহায্য করবেন, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী কোনো অন্যায় কাজ জামায়াতে ইসলামী রাজপথে মেনে নেবে না।



