সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী-এর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।
সম্মাননা পাওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ) মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এই পদক প্রদান করেছে।
ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের মরণোত্তর প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কর্মরত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।



