যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে পতন দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতির দিকে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে— এমন আশঙ্কাই স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে বন্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ওয়ান্ডার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজার এখন ফেডের সম্ভাব্য সুদ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি কঠোর নীতির প্রভাব মূল্যায়ন করছে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কমতে পারে।
এদিকে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও জোরদার হয়েছে।
বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে। বর্তমানে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত, মার্কিন অর্থনীতির গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।



